Wednesday, 3 August 2011

ঊরস পালন শরীয়ত সম্মত

 fبسم الله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه أجمعين
উরস পালন কোরান হাদিস সম্মত, পরিপন্থী কাজ  নয়

    ফখরুল হাসান সাহেবর লিখিত উরুস কোরান হাদিসের পরিপন্থী কাজ  প্রবন্ধ পড়ে খুবই আশ্চ্যর্য হলাম যা তৈয়বুর রাহমান সাহেব তার বক্তৃতার মধ্যে ব্যক্ত করেছেনএই বক্তৃতার দ্বারা স্পস্ট যে তিনি নিজেকে আমীরে শরীয়ত দাবী করিলেও হাদীস শাস্ত্র সম্পকে বেশি জ্ঞান রাখেন নাশুধু মাত্র দু এক স্থানের নিদর্শন কে যে ইসলামের দলীল হিসাবে মেনে নেওয়া যায় না তা সম্পর্কে সকলেই জ্ঞাত
               আমি আল-আযহার বিশ্ব বিদ্যলয়ে পাঠ্যারত অবস্থায় যখন ভারতের ইসলামিক সভ্যতার দিকে দৃস্টিপাত করতাম তখন উপলব্ধি করতাম যে ভারত উপমহাদেশে ইসলামিক সভ্যতার অবনতীর এক কারন হ্ এই দেশের কিছু স্বল্প জ্ঞানী ওলামা সম্প্রদায় যারা সাধারণদের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বৃদ্বির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ফাতওয়া জারী করে থাকেন
তৈয়বুর রাহমান সাহেব উরস বিষয়ে যে ন্তব্য রে নিজ নির্বুদ্ধিতার যে রিচয় দিয়েছেন তা স্পষ্ট উরস পালন করা কোরান হাদিসের আলো্কে বৈধ কিনা তা আলোচনার পূবেউরসশব্দের অর্থ  প্রসঙ্গে আলোকপাত করা প্রয়োজন
 **উরস শব্দের ব্যবহৃত অর্থ**
উরস শব্দটি বাস্তব যে অথে ব্যবহৃত হয় তা হল, প্রতি বছর কোন ওলী বা কোন নেক বান্দার ওফাত দিবস কে কেন্দ্র করে তার কবর যিয়ারত ,কোরান পাঠ তার উদ্দেশ্যে সাদকা ইত্যাদির মাধ্যমে ছাওয়াব পৌছানোকে উরস বলা হয়Urs merely means to visit the grave on the date of demise every year,convey the reward of the receitation of the Holy Quran and give charity.
উরসের উৎস হাদিস পাক এবং অন্যান্য কেতাব হতে প্রমানিত
 **হাদিসের আলো্কে উরস তথা কবর যিয়ারত,কোরান পাঠ তার উদ্দেশ্যে সাদকার বৈধতা**
, সহীহ ইবন হাব্বান,মুস নাদে আহমদ নামক সহীহ হাদিস কেতাবে এসেছে হুযুর পাক সাল্লাল্লাহ আলায় হে ওয়া সাল্লাম ইরছাদ  করেছেন যে   
إني كنت نهيتكم عن زيارة القبور ألا فزوروها فإنها تذكركم بالموت অথাৎ আমি তোমাদের পূর্বে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম কিন্তু এখন থেকে নিশ্চয় করবে যা তো্মাদের মধ্যে মৃত্যুর ভয় জাগাবেউক্ত হাদিস ম্পকে আরব,মিস তথা বিশ্বে বড় বড় মুহাদ্দিস দের মধ্যে কোন মতভেদ নেই এবং কলেই এই হাদিস দ্বারা যিয়ারত রাকে মুস্তাহাব  সুন্নাত বলে মেনে নিয়েছেননির্ধারিত হোক অথবা অনির্ধারিত হোক প্রত্যেক প্রকারের যিয়ারত যায়েজ
উরস এর দিনে মৃতদের উদ্দেস্যে কো্রান খানি করা হয়ে থাকে যা হীহ ইবনে হাব্বান উল্লেখিত হিহ হাদিস দ্বারা প্রমানিত হুযুর ইরছাদ রেন
روى ابن حبان وصحح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إقرأوا يس على موتاكم
অথাৎ তো রা তো্মাদের মুদাদের উদ্দেস্যে সুরা ইয়াসিন পাঠ
, বায়হাক্বী শরীফ এর মধ্যে আছে সাহাবী হযরত আব্দুল্লা বিন ওমর হতে বর্ণিত
كان يستحب قراءة أواخر البقرة على القبور   
অর্থাৎ হযরত আব্দুল্লা বিন ওমর সূ্রা বাকারার শেষাংস কে মুর্দাদের উদ্দেশ্যে পাঠ করাকে মুস্তাহাব বলেছেন

উরস বা মৃত দের কব যিয়ারত ,তাদের উদ্দেস্যে কোরান পাঠ করা বৈ্ধতা উপ রিক্ত সহিহ কেতাব ছাড়াও যে সকল হাদিস এর মধ্যে এসেছে তা হল মিশকাত রিফ এরزيارة قبور অধ্যয়ে
فزوروها শব্দটি বহূ কেতাবে এসেছে যেম নেসাই শরীফ এর ৬৩৭ নং হাদিসে,মুসলিম রীফ,আবু দাউদ তিরমী্যী মধ্যে ব্যবহৃত য়েছে
  অতএব  যারা নে রেন যে উরুস কোরান হাদিসের পরিপন্থী কাজ তাদের অনুরোধ করব তারা যেন এই সকল হাদিস গ্রন্থ গুলি পাঠ করেন, এর ফলে এক দিকে যেমন নিজেরা নিজ ভূল বুঝতে পারবেন অপর দিকে মুসলিম সমাজ সঠীক থের সন্ধান পাবে
     তৈয়বুর রাহমান সাহেব তার বক্তৃতার মধ্যে আর বলেছেন যে ভারত  এশিয়ার দু একটি দেশ ছাড়া অন্য কোথাও প্রথা চালু নেয় মন্তব্য একদম ভিত্তিহীন,আমার মনে হয় তিনি জানেন কীনা যে বিশ্বে ৫৬ টী মূসলিম দেশ রয়েছে ,সেই সকল দেশের বড় বড় ওলামায়ে কেরাম উরস এর বৈধতা স্বীকার 
করেছেন, মিসর তথা আরব দুনিয়াই যিনি খ্যাতি সম্পন্ন মু্ফতি তিনি হলেন মু্ফতি আলি জুমআ ,তিনি তার ফাতওয়ার কেতাব আল বায়ান এর মধ্যে লিখেছেন
قال علماء الإسلام زيارة القبور سنة مستحبة، وأمر مطلوب تذكرنا بالموت والأخرة.কবর যিয়ারত  উরস করা সম্পকে সকল ওলামার রায় হল এটা মুস্তাহাব” (আল বায়ান ১৯৩ পৃঃ)
তিনি লিখেছেন মৃতদের উদ্দেশ্যে কো্রান পাঠ করা ,সিরনী থাবার তৈ্রী করে গরীব মিস্কিন দের খাওয়ানো বণ্টনকরা শরীয়ত সম্মত(আল বায়ান ২৭৩ পৃঃ)
  ,  যিয়ারত প্রসঙ্গে ইমাম তাবরানী তাঁরকাবীরগ্রন্থে,দারুল কু্তনি সু্নানের মধ্যে এবং বায়হাক্বীকুবরা৫ম খন্ড ২৪৫ পৃঃ মধ্যে উল্ল্যেখ করেছেন হুযুর পাক ইরশাদ করেছেন                                                                        والرسول صلى الله عليه وسلم يقول: "من زار قبري وجبت له شفاعتي   অর্থাৎ যে আমার কবর যিয়ারত করল তার শাফায়াত আমার উপর ওয়াজিব হয়ে গেল
,মুগণী ২য় খণ্ড ২২৫ পৃঃ,তোহফাতুল আহূযী ৩য় খণ্ড ২৭৫ পৃঃ মধ্যে হযরত আনাস রাদীয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিতযখন কেউ কবর স্থানে প্রবেশ করবে সে যেন সু্রা ইয়াসিন তেলায়াত করে ,এর ফলে গো্রস্থানবাসীর উপর রহমত বর্ষীত হয়
 উরসের বৈ্ধতা সর্ম্পকে আর বহু উপযূক্ত দলীল রয়েছে,এর মধ্যে সামান্য কিছু বনর্না করা হল
পরিশেষে,একথা বলতে চাই যে সামান্য কিছু সংখ্যক লোক বা এলাকার ক্রীয়া কলাপ দ্বারা শরীয়তের আইন প্রযোজ্য হয় না, শরীয়তের আইন প্রযোজ্য হয় এক মাত্র কো্রান হাদিসের অমূল্য বাণী দ্বারা
                                                 যুব আহ লে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের তরফ হতে মু্ফতি মোহাকিক কাজী নুরুল আরেফিন রেজবী  সাকাফি আল আযহারী   
(M.A,RESEARCH AL-AZHAR UNIVERSITY,CAIRO,EGYPT)
                                    ( DATE-1st Rabiul awal 1432,5th feb 2011)  
                          PHONE -9732030031,7797542960

No comments:

Post a Comment